ফরিদপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলা

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী মুসরীনআক্তার (৪৫) এর নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত ১৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৯৬ টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুটি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে সিদ্দিকের নামে ১১ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকা এবং তার স্ত্রী মুসরীন আক্তারের নামে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিদ্দিকুর রহমান ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে ২০২০ সালের ১৬ মে হামলার ঘটনায় ওই বছর ৭ জুন ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। পরবর্তিতে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফের সাবেক এপিএস এ.এইচ.এম ফোয়াদসহ তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট সহচর গ্রেপ্তার হন। সিদ্দিকুর রহমান ফোয়াদের নিকটজন ছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে সিদ্দিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং বেশ কয়েকবার তাকে কারাগারে যেতে হয়।
খন্দকার মোশাররফের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের নামে ঢাকার কাফরুল থানায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়। এই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে সিদ্দিকুর রহমানের নাম রয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বাদী হয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্দিক দম্পতির নামে তাঁর কার্যালয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের সহকারি পরিচালক মো. জাকির হোসেন এ মামলা দুটি নথিভুক্ত করেন।
এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গত ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর এবং সিদ্দিকের স্ত্রী মুসরীন আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর এজাহার দায়েরের জন্য দুদক সমন্বিত ফরিদপুর জেলা কার্যালয়কে নির্দেশ দেন। তার প্রেক্ষিতে সোমবার এ দম্পতির নামে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয় সিদ্দিকের স্ত্রী মুসরীন মূলত একজন গৃহিনী। তার নিজস্ব কোন ব্যবসা বা পেশার আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। ২০১২-১৩ থেকে ২০২১-২২ কর বর্ষে তার স্বামীর অবৈধ ভাবে অর্জিত সম্পদই তার নামে অর্জন করা হয়েছে। স্বামী প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি তার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত এই ২ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ১ টাকা সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অপরদিকে সিদ্দিকুর রহমান ১৯৯৬-৯৭ হতে ২০২১-২২কর বর্ষ পর্যন্ত ১১ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের মালিক হয়েছেন।
দুদকের মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে এর আগে ১৯টি মামলা হয়েছে। প্রমান না পাওয়ায় স্বাক্ষী না পাওয়ায় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আমি দুদকের বড় একটি চাহিদা (ডিমান্ড) পূরণ করিনি বলে আমার ও আমার স্ত্রীর নামে এ মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে দুদকের এর মামলা নিয়ে আমি শঙ্কিত নই। আমার ট্যাক্স ফাইলে আমার সম্পদের সকল হিসাব নথিভুক্ত রয়েছে।
সিদ্দিকের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ দুটি মামলার বাদী দুদক ফরিদপুরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বৈধভাবে আয় বহির্ভুত সম্পদ পাওয়ায় সিদ্দিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী মুসরীন আক্তারের নামে এ মামলা করা হয়েছে। চাহিদা পূরণ সম্পর্কিত সিদ্দিকের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন অপরাধী নিজেকে বাঁচানোর জন্য নানা ধরণের পন্থা বেঁছে নেন। এ দাবি সে অর্থে করা হয়েছে এর কোন ভিত্তি নেই।

%d