যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির অভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) সকালের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৫ ডলার বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭৭ ডলারে।
মূলত হরমুজ প্রণালি ও কেশম দ্বীপকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরানের কেশম দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের তেলবাহী জাহাজ ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ করার পর তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই জেরে তেহরান কুয়েত ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ করে, যা তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও কেশম দ্বীপকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী তাদের তেলবাহী জাহাজ ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ আঘাত হেনেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একজোট হয়ে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয়নি। বরং যুদ্ধবিরতির পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সরাসরি ও পরোক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা, কূটনৈতিক চাপ এবং সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।












