যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্থিতি!
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সপ্তাহজুড়ে চলা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ জুন) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণের জবাবে হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, এই হামলার কড়া জবাব দিয়ে ওই অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগামী একটি জাহাজে হেলফায়ার ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সতর্কর্তাবার্তা না মেনে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে জাহাজটি অগ্রসর হওয়ায় হেলফায়ার ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়ে সেটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্থ করে জাহাজটিকে অচল করে দেয় মার্কিন বাহিনী। এছাড়াও ইরানের কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড- আইআরজিসির একটি যোগাযোগ টাওয়ারেও হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাকে আত্নরক্ষামূলক বলে বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।
হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে সফল হামলার দাবি জানায় আইআরজিসি। এছাড়াও কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাটি লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরান সফল হামলার দাবি করলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরানের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রতিহত করেছে। এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা সম্পদের ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবেই তারা মার্কিন স্থাপনায় এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার পর আইআরজিসি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।সূত্র: বিবিসি













