শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন মেসি, অভিনন্দন বার্সার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন মেসি, অভিনন্দন বার্সার

স্পেনের অন্যতম শীর্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস ২০২৬’ জিতে নিজের বর্ণাঢ্য ট্রফি ক্যাবিনেটে আরও একটি অনন্য স্মারক যোগ করলেন লিওনেল মেসি। টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের পর স্পেনের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা নিজের করে নিলেন ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা। দারুণ এই স্বীকৃতি জেতার পর বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে, যে তালিকায় বাদ পড়েনি তাঁর সাবেক স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব বার্সেলোনাও।

ক্রীড়া ইতিহাসেই অন্যতম সেরা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত করেছে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’-এর জুরি বোর্ড। ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি মাঠের বাইরে বিশ্বজুড়ে তাঁর যে বিশাল প্রভাব, এই পুরস্কারে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

নিজেদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে জুরি বোর্ড মেসির চোখধাঁধানো প্রতিভা, অনন্য ক্রীড়াশৈলী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাঁর অসাধারণ ও নিরবচ্ছিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক কিংবদন্তি তেরেসা পেরালসের সভাপতিত্বে এবং স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএসের’ এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর হোসে ফেলিক্স দিয়াজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল উল্লেখ করেছে—খেলার মাঠে মেসির ‘ধারাবাহিকতা, নম্রতা এবং দলীয় ভাবমূর্তির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা’ তাঁকে আজ পুরো বিশ্বের কাছে এক পরম শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।

নিজেদের সাবেক এই মহাতারকার অনন্য অর্জনের পর সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেনি বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যু-তেই মেসি কাটিয়েছেন তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ের সিংহভাগ। লা মাসিয়া একাডেমির গণ্ডি পেরিয়ে কাতালান ক্লাবটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম অধ্যায়ে। কাতালুনিয়ায় থাকাকালীন বার্সার হয়ে জিতেছেন ৪টি ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ১০টি লা লিগা এবং ৭টি কোপা দেল রে-র শিরোপা।

বার্সেলোনার অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ জেতায় লিওনেল মেসিকে অনেক অনেক অভিনন্দন। বার্সায় রেখে যাওয়া আপনার কিংবদন্তিতুল্য উত্তরাধিকার এবং আমাদের ক্লাবের হয়ে সাফল্যে মোড়ানো এক মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত যোগ্য ও যথার্থ স্বীকৃতি।’

পুরস্কার আয়োজকদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ট্রফিজয়ী খেলোয়াড় লিওনেল মেসি মাঠের ভেতরে তাঁর অনুকরণীয় ও আদর্শ আচরণের মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।’

এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা জয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের এমন এক অভিজাত তালিকায় নাম লেখালেন, যেখানে জড়িয়ে আছেন পুরো পৃথিবীর সব কিংবদন্তিরা। এর আগে রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখার, কার্ল লুইস এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ফুটবল দলের মতো মহাতারকারা এই পুরস্কারের মুকুট মাথায় পরেছেন। ফুটবলারদের মধ্যে ২০১২ সালে যৌথভাবে ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ এই পুরস্কার পেয়েছিলেন; এরপর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এককভাবে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত হলেন মেসি।

ডিজিটাল শৃঙ্খলে নতুন প্রজন্ম: নিষিদ্ধকরণ নাকি নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার?

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
ডিজিটাল শৃঙ্খলে নতুন প্রজন্ম: নিষিদ্ধকরণ নাকি নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার?

একসময় কিশোরদের আড্ডা, গল্প আর খেলাধুলা সীমাবদ্ধ ছিল পাড়া-মহল্লা বা স্কুলের মাঠে। যুগের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আড্ডা এখন বন্দি হয়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার চ্যাট, টিকটক লাইভ কিংবা অনলাইন গেমিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোই নতুন প্রজন্মের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তির আশীর্বাদের আড়ালেই ডালপালা মেলছে এক অন্ধকার অধ্যায়। যার নাম কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। অপরাধের নীলনকশা তৈরি থেকে শুরু করে মারাত্মক মোবাইল আসক্তি, সবকিছু মিলিয়ে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে বর্তমান প্রজন্ম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংগুলোর দল গঠন, সদস্য সংগ্রহ, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া এবং অপরাধের পরিকল্পনা করার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

র্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, গত ছয় বছরে দেশে প্রায় ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশই ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা মূলত ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত।

কোথাও কোথাও গ্যাংয়ের প্রভাব জাহির করতে, অস্ত্রের ছবি প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এবং নতুন সদস্য সংগ্রহেও ব্যবহার করা হয়েছে এই সামাজিক মাধ্যমগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকটক বা ফেসবুকে সস্তা ও সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতাই অনেক কিশোরকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধমূলক পথের দিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটেরব সহকারী অধ্যাপক — ড. মো. তৌহিদুল হক বলেছেন “আমাদের দেশে এখন যার যেমন খুশি সেভাবেই মোবাইল বা ডিভাইস ব্যবহার করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থীও অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পেয়ে যাচ্ছে।”

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে কিশোরদের আচরণে মারাত্মক নেতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তারা ক্রমে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে তাদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এখন নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ঐতিহাসিক আইন পাস করেছে। আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ফ্রান্সও ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য একই ধরনের বিল পাস করেছে। এ ছাড়া স্পেন, ব্রিটেন, নরওয়ে ও চীনসহ বহু দেশে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ বা ‘মাইনর মোড’ চালু রয়েছে।

ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৯টি দেশে (৪০ শতাংশ শিক্ষা ব্যবস্থায়) স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাসে ফোনের একটিমাত্র নোটিফিকেশনের কারণে মনোযোগ হারালে, শিক্ষার্থীদের পুনরায় পাঠে ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা সবসময় যৌক্তিক বা কার্যকর নয়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনলাইন শিক্ষা, জরুরি যোগাযোগ ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এই বাস্তবতায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর আইনের দেশেও ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার কিডস এবং গুগল ক্লাসরুমকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেছেন, অনেক শিশু মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং বা বই পড়ার মতো গঠনমূলক কাজও করে। তাই জেন-জি পরবর্তী প্রজন্মের বিকাশকে অস্বীকার না করে তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। ঢালাও নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

এই সংকট থেকে বাঁচতে শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ

অদিতি করিম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ

বিচারের আগেই কি কাউকে ফাঁসি দেওয়া যায়? এ প্রশ্ন শুনে অনেকেই অবাক হবেন হয়তো, ভাববেন, এটা কি কখনো সম্ভব নাকি?

আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপযুক্ত আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা আইনের শাসনের অন্যতম মৌলিক শর্ত। কিন্তু ইউনূস সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে প্রতি পদে। ইউনূসের শাসনামলে সবচেয়ে বড় কালো আইন ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধন।

এ আইন সংশোধন করে আন্ডার কাভার তদন্তের নামে হয়রানি, বিচারের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পত্তি ক্রোক করার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ। এ দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়।

ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে দুদক সংশোধন অধ্যাদেশও ছিল। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে।গত ১১ এপ্রিল থেকেই আগের দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ গ্রহণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ওই অধ্যাদেশ ছিল সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। এতে তদন্ত ও বিচার ছাড়াই সম্পদ জব্দ করাসহ চরম স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে বিনা বিচারে সাজা দেওয়া কেবল বেআইনি নয়, রীতিমতো অপরাধ।কিন্তু ইউনূস সরকার দেড় বছর ধরে এই কাজটি করছে এ অধ্যাদেশ জারি করে। ইউনূসের কালো আইন বাতিল হলেও এ আইনের আওতায় যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের মুক্তি মেলেনি। অবৈধভাবে যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল, যাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং যাদের সম্পত্তি বিচারের আগেই ক্রোক করা হয়েছিল, ইউনূসের কালো আইন বাতিলের ফলে সেসব কর্মকাণ্ড আপনাআপনিই আইনবহির্ভূত হয়ে যায়। তার পরও ভুক্তভোগীরা এখনো প্রতিকার পাননি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনূসের এ কালো আইনে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী এবং নিরীহ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের আগেই প্রায় ১ হাজার শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। ইউনূসের এ কালো আইনের কারণে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেন। ফলে নতুন করে বেকার হয়ে পড়ে কয়েক লাখ মানুষ। একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণে বহু ভালো ব্যবসায়ী নতুন করে ঋণখেলাপি হয়েছেন। খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনো হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এটি ইউনূসের কালো আইনের ফল। যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে তারা ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে? আজ বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা করতে বিদেশ যেতেই হবে। কিন্তু বছরের পর বছর যদি উদ্যোক্তা, শিল্পপতিদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তাহলে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে? বিদেশে যেতে না পারায় অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে আর্থিক খাতে এবং অর্থনীতিতে।

বেসরকারি খাত এ কালো আইনের কারণে বিপর্যস্ত। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। ইউনূসের এ কালো আইনে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হয়েছে। দুর্নীতি দমন এবং অর্থ পাচার এখন সব দেশেরই বড় সমস্যা। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও এরকম নিকৃষ্ট কালো আইন নেই। ভারতে ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। অন্যদিকে, অর্থ পাচার প্রতিরোধে ২০০২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারতে দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে বলা হয় সিবিআই (কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা)। অন্যদিকে অর্থ পাচার তদন্ত করে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)। ভারতের আইনে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের রায়ের আগে কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে পারে না। শুধু চার্জশিট প্রদানের পর আদালতের অনুমতি-সাপেক্ষে লেনদেন সীমিত করতে পারে। যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি পুরো টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যেতে না পারে। ভারতে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট প্রদান করতে হয়। কেবল অভিযোগ আছে এ কারণে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। ভারতে বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এরকম নিষেধাজ্ঞা জারির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সময়কাল আদালতে পেশ করতে হয়। পাকিস্তানে এখনো ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইন কার্যকর। যে আইনে একমাত্র আদালতে দোষী প্রমাণিত হলেই কেবল তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা সম্পদ জব্দ করা যায়। পাকিস্তানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ উল্লেখ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার (Money Laundering) রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনি কাঠামো রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘ক্লিন মানি’ বা স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে। ব্রিবারি অ্যাক্ট-২০১০ (Bribery Act 2010), যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিবিরোধী আইন, যা ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এ আইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার অধিকার নেই। শুধু ব্যাংক হিসাব বিবরণীর যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রসিডিংস অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২ (Proceeds of Crime Act 2002-POCA) : এ আইনের অধীনে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ (যেমন- দুর্নীতি, মাদক বা অপরাধের অর্থ) এ আইনে প্রাথমিক তদন্তের পর যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে জব্দ করা যায়। কিন্তু এসব দেশে অন্তহীন সময়ের জন্য বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান নেই।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে অন্তহীন মেয়াদে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোনো স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে। ’ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দুদক বনাম জি বি হোসেন মামলার ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, ‘একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে শুধু এ যুক্তিতে তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া যায় না। কেবল ফৌজদারি মামলায় আছে এ অজুহাতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ’ (৭৪ ডিএলআর)।
ইউনূস আমলে কেবল সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এ কালো আইন বাতিল করেছে। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে যাদের সীমাহীন দুর্ভোগ হয়েছে তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি মেলেনি। অনতিবিলম্বে সরকার এ কালো আইনের আওতায় যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে, বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দেশে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার আশা করি আর বিলম্ব করবে না।

টোয়াব নির্বাচন ১৬ জুন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
টোয়াব নির্বাচন ১৬ জুন

দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ‘কনশাস রিলায়েন্স ফোরাম’ ২০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফোরামটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন পর্যটন খাতের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ হানিফ।

নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। কনশাস রিলায়েন্স ফোরামের প্রার্থীরা ভোটার ও সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ জুন (মঙ্গলবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পর্যটন ভবনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কনশাস রিলায়েন্স ফোরামের ২০ জন প্রার্থীর পাশাপাশি অন্যান্য প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩১ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের টোয়াব নির্বাচনে কনশাস রিলায়েন্স ফোরাম ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিল। ওই নির্বাচনে ফোরামের প্যানেল প্রধান মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে প্যানেলের ১৯ জন প্রার্থীই বিজয়ী হয়ে সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কনশাস রিলায়েন্স ফোরামের নেতারা বলছেন, নির্বাচিত হলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ট্যুর অপারেটরদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তারা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, টোয়াব নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়; বরং দেশের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।